29 C
Dhaka
Saturday, July 20, 2024

কারাগারের গ্রিল কেটে নিয়ে গেল চোর

চুরিসহ বিভিন্ন অন্যায়ের দায়ে অপরাধীদের থাকার জায়গা কারাগার। অথচ সেই কারাগারও রক্ষা পাচ্ছে না চোরের হাত থেকে। কারাগার ভবনের জানালার গ্রিল, গ্লাসসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি করে নিয়ে গেছে তারা। এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার ও কারারক্ষীসহ কর্মকর্তাদের জন্য নতুন আবাসিক ভবনে। একই সঙ্গে কারাগারের কিছু ভবন নির্মাণ হলেও হস্তান্তর না হওয়ায় কলাপসিবল গেটে জং ধরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। প্লাস্টারগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেফটি ছাড়াই করা হচ্ছে কাজ। এর মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটছে।

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবীড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রকল্পটি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়েও এর সত্যতা মিলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাগারের কিছু ভবন নির্মাণ হলেও হস্তান্তর না হওয়ায় ৪ বছর ধরে পড়ে আছে। এ কারণে চুরিসহ নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, ময়মনসিংহ কারাগারে কর্মরত কারারক্ষীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনগুলো বাইরে থেকে অনেকটাই পরিত্যক্ত বাড়ির মতো দেখা যাচ্ছে। আবাসিক ভবনের বেশ কয়েকটি জানালার গ্রিল ও কিছু জানালার গ্লাস এরই মধ্যে চোরে খুলে নিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনগুলো পড়ে থাকায় কলাপসিবল গেটে জং ধরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। ভবনের বাইরের প্লাস্টারগুলো ক্রমান্বয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আরো পড়ুন  কোটা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকল্পটি পর্যালোচনা করে আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি, যে কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। কিছু প্যাকেজের কাজ প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট কাজ ভেরিয়েশনের জন্য বিলম্বিত হচ্ছে। নির্মিত ভবনগুলো কারা কর্তৃপক্ষেরে কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে নির্মিত ভবনের জানালার গ্রিল, গ্লাস ইত্যাদি চুরি হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আবাসিক ভবনগুলো নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিযুক্ত ক্রয় প্যাকেজের কারণে ভবনের আশপাশে ভূমি উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। ভবনগুলোকে প্রবেশের জন্য রাস্তা নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ না হওয়ায় নির্মিত ভবনগুলো দিন দিন পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। কারাগারের পুরোনো স্থাপনাগুলো অপসারণে বিলম্ব হওয়ায় কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হচ্ছে।

আরো পড়ুন  ‘আমি রাজাকার’ স্লোগানধারীদের শেষ দেখিয়ে ছাড়বে ছাত্রলীগ: সাদ্দাম হোসেন

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নেও চলছে ধীরগতি। ময়মনসিংহ পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে আধুনিকায়ন করতে ২০১৫ সালে ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পটি জুলাই ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল; কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। তিন বছরের প্রকল্পটির ৯ বছরে কাজ হয়েছে মাত্র ৪৬ শতাংশ। কারাগারের কিছু ভবন নির্মাণ হলেও হস্তান্তর না হওয়ায় ৪ বছর ধরে পড়ে আছে। এ কারণে চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ১ বছর করে চারবারে চার বছর ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।

পরবর্তী সময়ে গত বছর এপ্রিলে ২৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন করা হয়। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় বৃদ্ধি পায় ৮৮.২০ শতাংশ এবং মেয়াদ বৃদ্ধি পায় ২৩৩.৩৩ শতাংশ। প্রকল্পটির ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি ৩৭.২৩ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৪৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ৯ বছর অতিবাহিত হলেও প্রকল্পের অগ্রগতি আশানুরূপ হয়নি। বাকি সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

আরো পড়ুন  ‘৪৮ ঘণ্টায় ৩৫ শিশু নিখোঁজ’, যা বলছে পুলিশ

কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি ও কারাগারের নিজস্ব ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালে ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার পুনর্নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল এর অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বসবাসের পরিবেশ উন্নতকরণ এবং কারাগারের নিজস্ব জমি বেদখল হতে রক্ষা করা।

প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে কয়েকটি আবাসিক ভবনের নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ হয়েছে এবং কয়েকটির কাজ হয়েছে ৯০ শতাংশ। সিনিয়র জেল সুপারের আবাসিক ভবনের প্রায় ১০ শতাংশ কাজ হয়েছে, পুরুষ বন্দিদের জন্য ওয়ার্ক শেড নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ওয়ার্ক শেডটি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিশোর বন্দি ওয়ার্ডের ৮৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিশোর বন্দি ওয়ার্ডের রং ও গ্রিলের কাজ বাকি আছে। বন্দি ওয়ার্ডটি মূল কারাগারের বর্ধিত অংশে সীমানা প্রাচীরের বাইরের অংশে থাকায়, এ অংশের কাজ সম্পন্ন হলেও সীমানা প্রাচীরের কাজ না হওয়া পর্যন্ত বন্দি হস্তান্তর করা যাবে না।

সর্বশেষ সংবাদ