33 C
Dhaka
Thursday, July 18, 2024

অর্থের অভাবে হার্ট বিকল হয়ে যাবে নার্সিং শিক্ষার্থী মরিয়মের?

রংপুর নার্সিং কলেজের ‘বিএসসি ইন নার্সিং’ ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার নিশা ‘অ্যায়োরটিক অ্যানিউরিজম’ নামক হার্টের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে ক্রমেই হার্টে রক্ত জমাট বাঁধছে ও নালি চিকন হয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার জানিয়েছেন দ্রুত দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা না করাতে পারলে হার্ট বিকল হয়ে যাবে। কিন্তু এ চিকিৎসায় প্রয়োজন ৭-৮ লাখ টাকা, যা মরিয়মের দরিদ্র পরিবারের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব। পরিবারের সদস্যরা মরিয়মের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

মরিয়ম আক্তারের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ সন্তলা গ্রামে। তার বাবা আলতাব হোসেন ২০২১ সালে ব্রেইন স্ট্রোকে মারা গেছেন। তার মা গৃহিণী। ছোট ভাই ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারে উপার্জনক্ষম কোনো ব্যক্তি নেই। মামা-চাচাদের সহযোগিতায় চলছে সংসার।

আরো পড়ুন  অবশেষে গর্তে মিলল দুই খালাতো ভাইয়ের মরদেহ

অসুস্থ মরিয়ম আক্তার ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত ৯ মে আমার প্রথম জ্বর আসে। এরপর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ১৬ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হই। ডাক্তাররা বিভিন্ন টেস্ট দেন। একপর্যায়ে ধরা পরে আমার হার্টে রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং লেয়ার পাতলা ও চিকন হয়ে গেছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ স্যার চিকিৎসার জন্য ভারতে রেফার্ড করেছেন। এতে খরচ হবে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা। তিনি জানিয়েছেন দ্রুত চিকিৎসা না করালে হার্ট বিকল হয়ে যাবে।

মরিয়ম আরও বলেন, জানি না এখন কী হবে? পরিবার থেকেও এত টাকা দিতে পারবে না। কিছুদিন থেকে শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। কথা বলতেও কষ্ট হয়।

আরো পড়ুন  বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক, ভিডিও ছাত্রলীগ নেতার মোবাইলে

মরিয়ম আক্তারের মা রাজিয়া সুলতানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঢাকা পোস্টকে বলেন, অভাবের সংসারে মেয়েটা অনেক কষ্ট করে করে সরকারি নার্সিংয়ে চান্স পেয়েছে। ওর পড়ালেখার খরচও দিতে পারি না। এগুলো ভাবলে খুবই কষ্ট লাগে। মেয়েটা প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের খরচ নিজেই চালায়। ওর বড় অসুখ হইছে অনেক টাকা দরকার। কোথা থেকে পাব এত টাকা!

তিনি আরও বলেন, বছর তিনেক আগে মরিয়মের বাবা মারা যায়। মরিয়মের বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে কয়েক শতক জমি ছিল তাও বিক্রি করতে হয়েছে। এখন ভিটেমাটি ছাড়া কোনো সম্বল নেই। পরিবার থেকে দেওয়ার মতো কোনো উপায়ও নেই। আপনারা যে যতটুকু পারেন মেয়েটার জন্য সহযোগিতা করেন।

আরো পড়ুন  সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ২ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর

রংপুর নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ নারগিস আখতার বানু ঢাকা পোস্টকে বলেন, মরিয়ম পরিশ্রমী ও মনোযোগী শিক্ষার্থী। ওর চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে হবে। শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা সহায়তার জন্য ফান্ড সংগ্রহ করেছে। আমরা শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করবো।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান মাফু ঢাকা পোস্টকে বলেন, মরিয়ম আমার বন্ধুর মেয়ে। মেয়েটা স্কুলেও ভালো ছাত্রী ছিল। কয়েক বছর আগে ওর বাবা মারা গেছে। পরিবারটা অনেক গরিব। মেয়েটার হার্টে বড় অসুখ ধরা পড়েছে। আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করবো।

মরিয়মের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা করতে চাইলে-

মরিয়ম 01783634197 (বিকাশ)

সর্বশেষ সংবাদ