29 C
Dhaka
Thursday, July 25, 2024

নেত্রীকে ধর্ষণ, মামলার খবরে বাবাকে নিয়ে লাপাত্তা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

ছাত্রলীগের এক নেত্রীকে (২৯) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে স্পেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাঈল হোসেন রায়হানের (৩৫) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে ওই মামলায় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে মামলার বিষয়টি জানাজানির পর নিজের বাবাসহ লাপাত্তা ছাত্রলীগ নেতা ইসমাঈল হোসেন রায়হান।

রোববার (২৩ জুন) বিকেলে মাদারীপুর জেলা ছাত্রলীগের প্রভাবশালী ওই নেত্রী বাদী হয়ে নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ ধর্ষণ ও পর্ণোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত রায়হান নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগর গ্রামের মোল্লা বাড়ির ইউসুফ আলীর ছেলে। ওই মামলায় ছাত্রলীগ নেতা রায়হান ছাড়াও তার বাবা ইউসুফ আলী (৬৫), ভাই বাবু (৩৮) ও খালাতো বোন বেগমগঞ্জ উপজেলার সেতুভাঙ্গা এলাকার ফরাজি বাড়ির সবুজ ফরাজির স্ত্রী কলিকে (৩৫) আসামি করা হয়েছে।

আরো পড়ুন  মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি কেড়ে নিলো কলেজছাত্রের প্রাণ

ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেত্রীর অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছাত্রলীগ নেতা ইসমাঈল হোসেন রায়হানের সঙ্গে তার পরিচয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হয় তাদের। বিয়ের প্রলোভন এবং বিয়ের পর ওই নারীকে লন্ডন নিয়ে যাওয়ার কথাও ছিল।

ছাত্রলীগ নেত্রী জানান, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে কয়েকবার ধর্ষণ করে রায়হান। এ সময় কৌশলে ধর্ষণের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরে ওই ভিডিও চিত্র (ধারণকৃত) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে, আবার এসব আপত্তিকর দৃশ্য ডিলিট করে দেয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরও একাধিকবার ধর্ষণ, ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে সামাজিকতার ভয়ে ভুক্তভোগী কোম্পানীগঞ্জে এসে রায়হানের বাবা-ভাইকে সাক্ষী রেখে রায়হানকে ১০ লাখ টাকা দেন। কিন্তু পুনঃরায় আরও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে রায়হান। গত ১৯ জুন বাংলাদেশে আসে রায়হান। তার দাবিকৃত ওই টাকা ইসমাঈল হোসেন রায়হানকে না দিলে ভিকটিম ছাত্রলীগ নেত্রীর সকল আপত্তিকর ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ২৩ জুন রোববার লন্ডন চলে যাবে বলে ভিকটিমকে হুমকি দেয়।

আরো পড়ুন  প্রেমিকা নিয়ে দুই বন্ধুর দ্বন্দ্ব, একজনের মৃত্যু

এমন অবস্থায় বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী গত ২০ জুন কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করতে যান। কিন্তু পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করতে বলে। পরে ২৩ জুন দুপুরে ছাত্রলীগ নেত্রী নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১এ মামলা করেন। আদালত ভিকটিমের অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি রেকর্ড করে পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

খবর নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ২৭ এপ্রিল তৎকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এম জাকির হোসাইন যৌথ স্বাক্ষরে এক বছরের জন্য অনুমোদন দেয় স্পেন ছাত্রলীগের কমিটি। স্পেনে চাকরিরত অবস্থায় ছাত্রলীগের পদ-পদবী ব্যবহার করে ইসমাঈল হোসেন রায়হান নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। এ সব প্রশ্নে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের টনক নড়ে। দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষার্থে ২০১৯ সালের ৯ জুলাই ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর যৌথ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ সংগঠন বিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে ওই কমিটি বিলুপ্ত করে। এরপরও ছাত্রলীগের ওই পদবী ব্যবহার করে রায়হান নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কাজ করে আসছিল।

আরো পড়ুন  এসএসসিতে দুবার অকৃতকার্য, শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

এ বিষয়ে জানতে রায়হানের বাংলাদেশি নম্বরে একাধিকার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সংবাদ