29 C
Dhaka
Sunday, June 16, 2024

ডিউটি অবস্থায় কেন সহকর্মীকে গুলি করে মারলেন পুলিশ কনস্টেবল?

রাজধানীর গুলশানে ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে পুলিশ বক্সে দায়িত্ব পালন করছিলেন কনস্টেবল মনিরুল ইসলাম এবং কনস্টেবল কাউসার আহমেদ। এসময় তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নিজের সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মনিরুলকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়েন কাউসার। ঘটনাস্থলেই মনিরুল নিহত হন। আরও গুলিবিদ্ধ হন জাপান দূতাবাসের এক গাড়িচালক। কিন্তু কী কারণে কাউসার গুলি ছুড়লেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কাউসার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এদিকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, ডিউটিতে সময় মতো না আসা নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

শনিবার (৮ জুন) দিবাগত মধ্যরাতের এই ঘটনায় আহত গাড়ি চালক সাজ্জাদ হোসেন শাহরুখ পুলিশকে জানান, তিনি সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় এক পুলিশ সদস্যকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কারণ জানতে এগিয়ে গেলে সেখানে থাকা কনস্টেবল কাউসার তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আরো পড়ুন  বসুন্ধরায় এসি বিস্ফোরণ শিশু আয়মানের পর চলে গেলেন খালাও

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, কাউসারের এলোপাথাড়ি গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান কনস্টেবল মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘মানসিক সমস্যার কারণে আমাদের এক কনস্টেবল আরেক কনস্টেবলকে গুলি করেছে। ঘটনার পর কাউসার আহমেদকে নিরস্ত্র করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’

ডিএমপির ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুল ইসলাম সরকারও সংবাদমাধ্যমকে একইরকম তথ্য দেন। জানান, কাউসারের ব্যাচমেটদের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পেরেছেন, পাঁচ-ছয় দিন থেকে তিনি খুবই চুপচাপ ছিলেন, অন্য সহকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলছিলেন না ঠিকমতো। প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা, কাউসার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

এদিকে ঘটনার নৃশংসতা ধরা পড়েছে সিসিটিভি ফুটেজে। এতে দেখা যায়, ফিলিস্তিন দূতাবাসের নিরাপত্তাকর্মীদের ডিউটিবুথের সামনে বাকবিতণ্ডা চলছে কনস্টেবল কাওসার ও মনিরুলের। ডিউটি খাতা নিয়ে কিছু একটা বলাবলি করছিলেন তারা। হঠাৎ মনিরুলের দিকে ডিউটি খাতাটি ছুঁড়ে দেন কনস্টেবল কাওসার। এরপর আচমকা ডিউটিবুথ থেকে মনিরুলের দিকে গুলি ছোঁড়েন। পরে বুথ থেকে বের হয়েও একের পর এক কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে মনিরুলের মৃত্যু নিশ্চিত করেন কাওসার। এ সময় মনিরুলের অস্ত্রটিও হাতে তুলে নিয়ে তার নিথর দেহ লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকেন তিনি।

আরো পড়ুন  হঠাৎ মেট্রো স্টেশনের ছাদে ফায়ার সার্ভিস কেন?

ঘটনার সময় জাপান দূতাবাসের গাড়িচালক সাজ্জাদ হোসেন শাহরুখের পেট ভেদ করে চলে যায় একটি গুলি। ইউনাইটেড হাসপাতালের মুখপাত্র ড. ফজলে রাব্বী জানান, সাজ্জাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। আজকের মধ্যেই অপারেশন করা হবে।

রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। জানান, কাউসরকে নিরস্ত্র করে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

এদিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলছে, কাউসারকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে মূল কারণ উদঘাটনে আদালতের কাছে তার রিমান্ড চাওয়া হবে।

আরো পড়ুন  ঢাকার ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে পুলিশের গুলিতে পুলিশ নিহত

এদিকে ঘটনার পর রাত আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আহত সাজ্জাদকে দেখতে হাসপাতালে যান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘পুলিশ একটা শৃঙ্খলা বাহিনী। এই পুলিশ সদস্য কেন এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখব। আহত সাজ্জাদকে জিজ্ঞাসা করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে।’

ঘটনার পরপরই কনস্টেবল কাউসারকে নিরস্ত্র করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাউসারের কাছে গুলি করে হত্যার কারণ জানাতে চাওয়া হবে।’

এদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাউসারকে নিরস্ত্র করার পর ঘটনাস্থল থেকে ২০ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার পর কূটনৈতিক পাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুলশান থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম।

সর্বশেষ সংবাদ