29 C
Dhaka
Sunday, June 16, 2024

ঢাকার রাস্তায় ঘুরছে ধাক্কা পার্টির সদস্যরা, সুযোগ পেলেই ছিনতাই

রাজধানীর মা বুলিয়ান অ্যান্ড সিলভার জুয়েলার্সের কর্মচারী মহিউদ্দিন। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল কদমতলীতে মসলা এন্টারপ্রাইজের কাছাকাছি আরত থেকে ৭০ লাখ টাকা ব্যাগে নিয়ে তাঁতীবাজারের উদ্দেশ্যে হেঁটে রওনা দেন। এ সময় এক দুষ্কৃতকারী তাকে ধাক্কা দিয়ে উল্টো অভিযোগ তুলে প্রচণ্ড কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে তার চোখে আঙুল দিয়ে গুল লাগিয়ে দেয় এবং টাকা ভর্তি ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

সেই ঘটনার পর গ্রুপের প্রধানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত সাড়ে ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মূল পরিকল্পনাকারী খোকন দাস ওরফে বাইল্যা খোকন, মূল সংগঠক রেজাউল করিম এবং ভিকটিমের গতিবিধি রেকিকারী দলের কামাল হোসেন।

বুধবার (২৯ মে) সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপির গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মশিউর রহমান, বিপিএম-বার, পিপিএম-সেবা।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতি এবং ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-লালবাগ) জানান,

মা বুলিয়ান অ্যান্ড সিলভার জুয়েলার্সের কর্মচারী মহিউদ্দিন গত ২৬ এপ্রিল কদমতলীর খেজুরের গলিতে অবস্থিত মসলা এন্টারপ্রাইজের কাছাকাছি আরত থেকে ৭০ লাখ টাকা ব্যাগে নিয়ে তাঁতীবাজারের উদ্দেশ্যে হেঁটে রওনা দেন। বিকেল অনুমান ৪টা ৫০ মিনিটের সময় ইসলামপুরের নবনারায়ণ লেনের প্রবেশ মুখে পৌঁছামাত্র এক দুষ্কৃতকারী তাকে ধাক্কা দিয়ে উল্টো অভিযোগ করে ধাক্কা দিল কেন। টাকা বহনকারী মহিউদ্দিন “সরি” বলে ক্ষমা চেয়ে চলে যেতে চাইলে আশপাশে ওঁৎ পেতে থাকা আরও ৭ থেকে ৮ জন দুষ্কৃতকারী তাকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রচণ্ড কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে তার চোখে আঙুল দিয়ে গুল লাগিয়ে দেয় এবং টাকা ভর্তি ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

আরো পড়ুন  দিনাজপুর বোর্ডে মেয়েদের বাজিমাত, ৪ স্কুলের সবাই ফেল

তিনি জানান, জুয়েলার্সের মালিক আকিদুল ইসলামের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৭ এপ্রিল একটি ডাকাতি মামলা রুজু হয়। আশপাশের কয়েকশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করে থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। একাধিক টিম চট্টগ্রাম এবং খুলনায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে নগদ সাড়ে ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

আরো পড়ুন  এমপি আনার হত্যা: যেসব প্রশ্ন ঘিরে জটিল হচ্ছে রহস্য

তিনি আরও জানান, পুরাতন ঢাকার পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন এই লাখ লাখ টাকার লেনদেন করে থাকেন খুবই সাধারণভাবে। এই লেনদেনে থাকে আস্থা, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। মোটা অঙ্কের টাকা পরিবহনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও কাছাকাছি জায়গায় টাকা স্থানান্তর করা হয় বলে তারা অনেক সময় পুলিশকে অবগত করেন না বা সহযোগিতা নেন না।

তিনি জানান,

পুরাতন ঢাকার এই এলাকাগুলোতে প্রতিদিন শত কোটি টাকার বৈধ লেনদেনের পাশাপাশি অনেকেই হুন্ডির টাকা লেনদেন করে থাকেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ডাকাত ও ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা ওঁৎ পেতে থাকে এই হুন্ডির ব্যবসায়ীদের টাকা ডাকাতি করার জন্য। হুন্ডিতে টাকা লেনদেন করা আইনগত স্বীকৃত নয়। সে কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অধিকাংশ সময় বিষয়টি পুলিশ বা আদালতকে অবগত করে না।

তিনি আরও জানান, এই ডাকাতির ঘটনার মাস্টারমাইন্ড বাইল্যা খোকন। সে পুরাতন ঢাকায় বসবাস করে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় থেকে কোন ব্যবসায়ী কীভাবে টাকা লেনদেন করে এই সম্পর্কে ভালো করে জানে। অপারেশনাল কমান্ডার রেজাউল করিম এক সময় পুরাতন ঢাকাতেই ব্যবসা করত। খুলনা, বরিশাল, চাঁদপুর, মিরপুর ও ময়মনসিংহ থেকে ডাকাতদের ঢাকায় এনে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে কিলঘুষিতে রক্তাক্ত করে চোখে গুল লাগিয়ে ডাকাতি করে। তারা কম দামের বাটন ফোনে নিবন্ধনহীন সিম লাগিয়ে যোগাযোগ করে ঘটনার পরে মোবাইল এবং সিম নদীতে ফেলে দিয়ে বিভিন্ন জেলায় পালিয়ে থাকে।

আরো পড়ুন  চল্লিশার দাওয়াত খাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে হামলায় নিহত ১

তিনি জানান, এই শহরে কেউ কারও খবর রাখে না বলে সরু রাস্তায় শত মানুষের সামনে ডাকাতি করে নির্বিঘ্নে অর্ধ কিলোমিটার পথ দৌড়ে পালিয়ে যেতে পেরেছে ডাকাতরা। ব্যবসায়ী ও সর্বসাধারণ মানুষ যদি তাদের প্রতিষ্ঠান বা বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ভালো মানের সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে, ভিকটিমদের প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করে সবাই এগিয়ে আসে তাহলে এ জাতীয় ডাকাত বা ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ অথবা গ্রেপ্তার করে আইন আমলে নিয়ে আসা সহজ হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী যদি হুন্ডি ব্যবসায়ীও হয় তাহলে যেন চুপ না থেকে থানায় অভিযোগ করেন এবং ব্যবসায়ীসহ যে কেউ যদি মোটা অঙ্কের টাকা পরিবহন করতে চান তাহলে নিকটস্থ থানা পুলিশের সহায়তা নেওয়ার জন্য তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন।

সর্বশেষ সংবাদ