30 C
Dhaka
Sunday, July 21, 2024

রংপুরে পুলিশ পরিচয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ, অতঃপর…

রংপুরের মিঠাপুকুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মো. আশিকুর রহমান ওরফে সাগর (২৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে আটকের একদিন পর মিঠাপুকুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ হেফাজত থেকে অভিযুক্ত ধর্ষক রহস্যজনকভাবে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) মিঠাপুকুরের গোপালপুর ইউনিয়নের বগেরবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরদিন বুধবার ওই ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী যুবককে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে স্থানীয়রা।

অভিযুক্ত মো. আশিকুর রহমান ওরফে সাগর মিঠাপুকুরের ১৪নং দূর্গাপুর ইউনিয়নের পূর্ব চিথলীপাড়া গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রায় এক বছর আগে ওই নাবালিকা মেয়ের (১৪) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

আরো পড়ুন  মাত্র ৫০০ টাকার জন্য শিশুকে নদীতে ফেলে দিলো কিশোর

কিশোরীর বাবার অভিযোগ, তার কিশোরী মেয়েকে বিয়ের প্রলোভনে দিনের পর দিন বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে কৌশলে ধর্ষণ করেন। ঘটনার দিন মঙ্গলবার আবারও ওই নাবালিকাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করলে নাবালিকার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে অভিযুক্ত আশিকুর রহমানকে আটক করেন।

কিশোরীর অভিযোগ, ওই যুবক নিজেকে সাগর নামে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রেমের সম্পর্কে গড়ে তাকে ধর্ষণ করে আসছে। আটকের পর থানায় গিয়ে জানতে পারে তার নাম আশিকুর। ইতিপূর্বে তার বিয়ে হয়েছে এবং তিনি দুই সন্তানের জনক। ওই কিশোরী আশিকুরের শাস্তি দাবি করে।

এদিকে মিঠাপুকুর থানায় আশিকুরকে আটক দেখিয়ে ভিকটিম এবং তার অভিভাবক লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরেও পুলিশ মামলা রেকর্ড করতে কালবিলম্ব করে। পরে গভীর রাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের চাপে কিশোরী এবং তার পরিবারকে এক বৈঠকে উপস্থিত করা হয়। পরে বিচারের নামে তাদের সঙ্গে প্রহসন করা হয় বলে কিশোরী ও তার বাবা অভিযোগ তুলেছেন। তবে থানায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে অভিযোগ দাখিলের পরও আটক আশিকুর কীভাবে স্থানীয় সালিশ মীমাংসায় উপস্থিত হলেন তার দায় কেউ স্বীকার করেনি।

আরো পড়ুন  মামা পরিচয়ে প্রেমিককে বাড়িতে রাখেন প্রবাসীর স্ত্রী, অতঃপর...

ভুক্তভোগী ওই কিশোরী বলেছে, আশিকুরের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করে থানায় গেলাম। কিন্তু আমাকে পাঠানো হয় এক জনপ্রতিনিধির বাসায়। তারা ঠিক করল আমাকে দেড় লাখ টাকা দেবে। আমাকে তারা খারাপ বানিয়ে ছাড়ল। মৃত্যু ছাড়া আমার কোনো রাস্তা নেই।

কিশোরীর বাবা বলেন, যেখান থেকে ফোন এসেছিল, তার কথা অমান্য করার শক্তি মিঠাপুকুরে কারোর নেই। এটা কি ন্যায়বিচার? এমনকি ধর্ষণের ঘটনায় মীমাংসার দেড় লাখ টাকাও বাকি রাখা হয়েছে।

আরো পড়ুন  ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

গোপালপুর ইউনিয়নের পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনর রশীদ হারুন বলেন, আমি ইউনিয়ন পরিষদে ছিলাম না।

মিঠাপুকুর থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, এক বছর আগে তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। হয়তোবা এতদিন তারা অভিযুক্তের অন্য পরিচয় জানতেন। পরে সঠিক পরিচয় জানার পর ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ হয়। সেখান থেকে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে। তার দাবি, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে ভিকটিম এবং অভিযুক্তকে যথাযথ নিয়ম মেনেই জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাদীকে বারবার বলা হয়েছে, কিন্তু তিনি মামলা করতে চায়নি।

সর্বশেষ সংবাদ