36 C
Dhaka
Thursday, July 18, 2024

‘সম্পর্ক শেষ হয়েছে বলে দলবল নিয়ে ধর্ষণ করবে, কল্পনাও করিনি’

আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, সে সম্পর্ক শেষও হয়েছে। তাই বলে দলবল নিয়ে ধর্ষণ করবে, কল্পনাও করিনি। আমি নিকৃষ্ট মেয়ে হতে পারি, তাই বলে আমার সঙ্গে এই কাজ (ধর্ষণ) করবে। হাতে-পায়ে ধরে কান্নাকাটি করেও মাফ পাইনি।

সোমবার (১ জুলাই) গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন রাজধানীর খিলক্ষেতের বনরূপা এলাকায় স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ওই নারী। গত শুক্রবার (২৮ জুন) রাতে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে সাবেক প্রেমিকের নেতৃত্বে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন তিনি।

ঘটনার দিন ২৮ জুন ওই নারী কাওলায় সাবেক সহকর্মীর বোনের বাড়িতে স্বামীকে নিয়ে বেড়াতে যান। সেখান থেকে বিমানবন্দরে এক ব্যক্তির সঙ্গে একটি কাজে দেখা করে দুজন মিলে হেঁটে হেঁটে ঘুরতে থাকেন এলাকাটিতে।

ওই নারী বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে বনরূপা এলাকায় ঘোরার সময় সাবেক প্রেমিক কাশেমকে আরও তিনজন ছেলের সঙ্গে দেখতে পান। তিনি কাশেমকে এড়াতে স্বামীর সঙ্গে দ্রুত হাঁটতে থাকেন। কিন্তু ওই চারজন তাদের স্বামী-স্ত্রীকে টেনেহিঁচড়ে ঝোপের দিকে টেনে নিয়ে যান। ওই সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে আরও তিনজন ছেলে নেমে এসে ওই চারজনের সঙ্গে যোগ দেন।

আরো পড়ুন  মরদেহের পাশে চিরকুট, ‘নিজ হাতে ধর্ষককে মেরে শাস্তি দিলাম’

ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, তারা রড দিয়ে তাকে ও তার স্বামীকে পেটাতে থাকেন। রাত ১২টার দিকে তিনি একটি মোটরসাইকেলের শব্দ পান। ঝোপের কাছে মোটরসাইকেলের আরোহী থেমে একটা ঢিল ছুড়ে চলে যান। কেউ তাদের বাঁচাতে আসেননি। নির্যাতনের মধ্যে কাশেম বলেন, তিন লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দেবেন। টাকা নিয়ে দর–কষাকষিতে ৭০ হাজার টাকায় রাজি হন। তাকে জিম্মি রেখে আসামিরা তার স্বামীকে ছেড়ে দেন টাকা আনার জন্য। পরে তিনি স্বামীর কাছ থেকে শুনেছেন, স্বামী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর খিলক্ষেত থানা থেকে পুলিশ আসে। তারা তার স্বামীকে নিয়ে ওই ঝোপের কাছে গিয়ে দেখে, কেউ নেই। তারা ওই এলাকা তন্ন তন্ন করে খোঁজে। রাত দুইটার দিকে ওই সাত আসামির একজনকে রাস্তায় দেখে তার স্বামী চিনতে পারেন। পুলিশ ওই আসামিকে ধরলেও তিনি নির্দিষ্ট ঠিকানায় না এনে পুলিশকে ঘোরাতে থাকেন।

আরো পড়ুন  উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে মুখ খুললেন সাদেক এগ্রোর ইমরান

ওই নারী বলেন, একাধিকবার তাকে নিয়ে স্থান পরিবর্তন করেন কাশেমরা। রাত সাড়ে তিনটার দিকে তার গলা টিপে ধরেন কাশেম। তিনি ধর্ষণ ও হত্যার কথা বললে সেখানে থাকা অপর ছয় আসামির দুজন বাধা দেন। ওই দুজন বলেন, জিম্মি করে টাকা আদায় করা হবে, সে জন্য তারা এসেছেন। ধর্ষণ ও হত্যার মধ্যে তারা থাকবেন না।

ওই নারী বলেন, তিনি হাতে-পায়ে ধরেন ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে। কম বয়সী তিনজনকে বলেন, ‘তোমরা আমার সন্তানের বয়সী’। কিন্তু তারা ভ্রুক্ষেপ করেননি। ওই নারী বলেন, স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাবেন এবং টাকা দেবেন বলার পর কাশেম ভোর পাঁচটার দিকে তাকে ছেড়ে দেন। তিনি ওই সময় হাঁটতে হাঁটতে খিলক্ষেতে একটি সেতুর কাছে এসে এক নিরাপত্তাকর্মীর মুঠোফোন থেকে স্বামীকে ফোন করেন। তখন স্বামী ও পুলিশ সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

আরো পড়ুন  বাস কাউন্টারে মায়ের মৃত্যু, পাওয়া গেল শিশুর পরিচয়

এ ঘটনায় সাত আসামির সবাইকে গ্রেপ্তার করেছে খিলক্ষেত থানা-পুলিশ। আসামিরা হলেন আবুল কাশেম ওরফে সুমন (৩৭), পার্থ বিশ্বাস (২০), নূর মোহাম্মদ (২০), হাসিবুল হাসান (১৯), রবিন হোসেন (২৮), মীর আজিজুল ইসলাম (২৩) ও মেহেদী হাসান (২২)। ভুক্তভোগী নারী মামলার বাদী। তিনি জানান, সাত আসামির মধ্যে কাশেম ও কম বয়সী তিনটি ছেলে তাকে ধর্ষণ করেন। বাকিরা তাদের সহায়তা করেন। আর তাকে মারধর করেছেন প্রত্যেকে।

সর্বশেষ সংবাদ